ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
আমেরিকা-ইসরাইল ইরান আক্রমণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ তার ভয়াবহতা কল্পনাতীত। জ্বালানি তেল, গ্যাস পরিবহনে ব্যবহার করা হয় একুশ কিলোমিটারের যে ছোট্ট হরমুজ প্রণালী, দুবাইয়ের অত্যাধুনিক বিমান বন্দর, হোটেল, দালান-কোটা, ভাসমান প্রমোদ উদ্যান এমনসব দৃষ্টিনন্দন সৃষ্টির অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। ইসরাইলের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়তে পারে তাই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দেয়া চলবে না।
অনেকটা এমন লজিকই কাজ করেছে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণেও। রাশিয়ার জন্য কিছুটা হুমকি হতে পারে, ন্যাটো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাময় কোন শক্তির উদয় রাশিয়া সহ্য করবে এমন হতেই পারে না। এমনসব সম্ভাবনা শক্তিশালী দেশ ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পুতিনের রাশিয়া কিছুকেই মেনে নিতে পারেনা বলেই অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী শক্র ভাবাপন্ন দেশগুলোর উপর এহেন আক্রমণ।
২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা করে তখন পুতিন ভেবেছিলেন মাত্র কয়েকদিন লাগবে দেশটি দখল করতে। বাস্তব হলো যুদ্ধ পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাইডেনের সময়ের মত সামরিক সরঞ্জাম, টাকা পয়সা এবং অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছেনা বটে কিন্তু কিয়েভ টিকে আছে। শীতের তীব্রতা কমে গ্রীষ্ম আসছে যা ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি উল্টে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে নিলেও ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো সম্প্রতি ১০৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্যা কেজ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, হাঙ্গেরি ভেটো দেয়ার হুমকিতে এ প্যা কেজ কার্যকর করার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের আমেরিকা ইউরোপের দেশগুলোতে রক্ষণশীল কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ লক্ষ্যে প্রথমবার প্রেসিডেন্টের কার্যভার গ্রহণের অব্যবহিত পরেই স্টীভ বেননকে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাজধানীতে পাঠান। হ্যা জ্ঞেরীর ওরবান তার মন্ত্রণা গ্রহণ করে কট্টর রক্ষণশীল পথে পদচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কুটনীতিক বিশারদ মার্ক রুবিও হাঙ্গেরি ঘুরে এলেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী একনাগাডে ষোল বছর ক্ষমতায় থেকে যেতে সমর্থ হয়েছেন ।
এপ্রিল ২০২৬শে মেয়াদ শেষে ক্ষমতায় থাকবেন এ ব্যা পারে রুবিও থাকে আশ্বস্ত করেছেন। কি মোক্ষম সময়ে রুবিও ওরবানকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন তা ভাবলে যুক্তরাষ্ট্রের কুটনৈতিক মিশন কোন পথে তা বুঝতে সহজ হয়। এদিকে রাশিয়ার সাথে ইউক্রেন প্রশ্নে হাঙ্গেরির দহরম সুবিদিত। কোন রাখঢাক ছাড়াই হাঙ্গেরি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যা স আনয়নে বাঁধা দিচ্ছে এ মর্মে ইউক্রেনকে দোষারোপ করছে । স্লোভেনিয়ার সাথে একযোগ হয়ে বলছে যে ইউক্রেনের মধ্যা দিয়ে যাওয়া দ্রুজবা পাইপ লাইন ইউক্রেন কেটে দিয়েছে যে কারণে এ দুটো দেশ রাশিয়া থেকে সরাসরি তেল আনতে পারছেনা । ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার বোমাবর্ষণে এমন হয়েছে বলে দাবি করছে ।
ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কিছুটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। রাশিয়া ম ইরান পন্থী মিত্রদের সহযোগিতা করে আসছে দীর্ঘদিন। সিরিয়া থেকে সরে আসতে হলেও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ সহ মিত্রদের সাথে সখ্য তা ছেডে আসতে পারবেনা। এতসব সমস্যাসঙ্কুল অবস্থায় আফগানিস্তান-পাকিস্তান মধ্যেকার যুদ্ধ বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে । চীন এ সুযোগে তাইওয়ান আক্রমণ করলে অবাক হওয়ার মতো ব্যা পার হবেনা। এমন সম্ভাবনায় জাপান মাঠে নামবে নিশ্চিত। ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, বার্মা এদেশগুলোকেও টেনে আনা হবে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি হয়েই আছে। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে সন্দেহ নেই। নিউক্লিয়ার যুগে, এআই সমৃদ্ধ পরমাণু যুদ্ধ পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিতে পারে এমন আলামত দেখা যাচ্ছে।
Posted ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh